Logo

বাঁধনের ওপর হামলা অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ: ডেপুটি স্পিকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫২
বাঁধনের ওপর হামলা অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ: ডেপুটি স্পিকার
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইতালি সরকার ও দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ। অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি প্রচলিত অর্থে পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় না পড়লেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী। তাই সংসদের বিশেষ ক্ষমতাবলে বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ চান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি জানান, চলচ্চিত্রসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিসে গেছেন। সোমবার নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার কথা জানান বাঁধন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য ও ছোট সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটার সময় বাঁধনের ওপর শারীরিক ও মৌখিকভাবে হামলা চালানো হয়। তাঁকে অশালীন ভাষায় অপমান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, বাঁধন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বাঁধনের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

একজন নারী ও দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য। হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাতে দেশের বাইরে থেকেও তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নারীর ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন জহরত আদিব চৌধুরী। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইতালির সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কীভাবে এগোচ্ছে—তা জানতে চান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্ত্রী ওই সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরে তাদের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। সংসদ ও দেশের মানুষও এ ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাউকে তখন সংসদে দেখা যাচ্ছে না। তারা সংসদে উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়।’

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের একজন বা দুজন সংসদে উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে বলেও জানান ডেপুটি স্পিকার।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD