অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে বছরে ঘাটতি ৩২৪ কোটি

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধা পরিশোধে বছরে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া জানতে চান, অবসর নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এককালীন অবসর ভাতার পূর্ণ অর্থ দ্রুত পরিশোধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এককালীন কল্যাণ সুবিধা দ্রুত পরিশোধে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ১৯৯০ সালের ২৮ নম্বর আইন এবং ১৯৯৯ সালের প্রবিধানমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
দেশের প্রায় ৩০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন থেকে নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, গত ১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদনকারী ৪২ হাজার ৯৩৮ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে চাকরিকালীন মূল বেতন থেকে কেটে রাখা চাঁদার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৪১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আরও প্রায় ১৩ হাজার আবেদনকারীর কর্তন করা চাঁদার অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় চলতি বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় এবং বরাদ্দ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রবিধান অনুসরণ করে অবশিষ্ট পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
কল্যাণ ট্রাস্টের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রতি মাসে চাঁদা থেকে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা এবং স্থায়ী আমানত ও চলতি হিসাবের সুদ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা আয় হয়। সব মিলিয়ে মাসিক আয় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য এককালীন ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ, ট্রেজারি বন্ড, ট্রাস্টের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ এবং আইবাস++-এর মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছ অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রচেষ্টায় অর্থের সংস্থান অনুযায়ী বর্তমানে অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জাতীয় সংসদে জানান শিক্ষামন্ত্রী।








