তেজগাঁওয়ে যুবক হত্যায় আনসার জড়িত থাকার খবর ‘ভিত্তিহীন’

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যদের মারধরের পর তার মৃত্যু হয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, বাহিনীর কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বাহিনীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও টি অ্যান্ড টি তার ভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরির চেষ্টা করতে দেখে ধাওয়া করেন।
ধাওয়ার একপর্যায়ে ওই যুবক পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর সময় চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএলের কর্মী মো. শওকত হোসেন আটক করেন। প্রতিষ্ঠানের টেলিফোনে দেওয়া নির্দেশনার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটকে রাখতে সহযোগিতা করেন।
বিজ্ঞাপন
পরে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএলের পি.ও. সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ছেড়ে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
আনসার বাহিনী বলছে, আটক যুবককে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর বা নির্যাতন করা হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়। একইভাবে আনসার সদস্যদের মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কিংবা আহত অবস্থায় আনসার সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন—প্রকাশিত এমন তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। কোনো স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য। এ ঘটনাতেও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আনসার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, নির্যাতন কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনকে তারা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয় না। তবে কোনো ঘটনার বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হলে এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।








