গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, তবে মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরে এলেও এর জন্য জাতিকে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সেখানে প্রদর্শিত সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম তার সঙ্গে ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।” তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র কখনোই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন দেশে এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ আর না ঘটে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এবং আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ঘুরে দেখেন। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
এ ছাড়া জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশন পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। শহীদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের বিভিন্ন নিদর্শনও ঘুরে দেখেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। চলচ্চিত্রটি দেখার সময়ও তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধও উপস্থিত ছিলেন।








