Logo

উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২৫
উপনির্বাচনে থাকবে সেনাবাহিনী, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন উপনির্বাচনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী বছরের জুনের আগেই শেষ করার লক্ষ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার কথা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া পক্ষগুলো একমত হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর এবং পরবর্তী কয়েকটি ধাপের জন্য ২০২৭ সালের বিভিন্ন তারিখ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে তখনও এসব তারিখকে চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে বাজেট, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, জনবল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। স্টাফ ও সচিবালয় পর্যায়ের সমন্বয় শেষে কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরপরই নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষার সূচি নিয়ে চ্যালেঞ্জ

বিজ্ঞাপন

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে শিক্ষা কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, এবারের বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তাই নির্বাচন আয়োজনের কারণে যাতে কোনো পরীক্ষা বা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কমিশন এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।

নভেম্বর-জানুয়ারিতে সময় সংকট

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ সীমিত। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এসএসসি পরীক্ষা এবং পরে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তবে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগের সময়টিতে কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও নির্বাচন পরিচালনার কাজ কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে।

বিজ্ঞাপন

আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি ইসি

ইউপি নির্বাচনের আগের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তা নাকচ করেন নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, আগের সভায় যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনার ভিত্তিতে করা একটি সাময়িক পরিকল্পনা। পরবর্তী সমন্বয় সভায় বিভিন্ন তথ্য ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

তাই আগের অবস্থান থেকে কমিশন সরে আসেনি বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যালোচনা শেষে কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন এর আগে জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত সমন্বয় করে তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD