নির্বাচনে ১২০ প্রতীক চূড়ান্ত, ‘নৌকা’ বাদ দিয়ে যুক্ত হলো ‘না’ ভোট

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮’ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় স্থগিত রাখা হয়েছে ‘নৌকা’ প্রতীক। পাশাপাশি সাধারণ ও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য মোট ১২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘না’ প্রতীকও।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একটি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
নতুন তালিকায় রয়েছে আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, ড্রেসিং টেবিল, ঢেঁকি, তারা, ফুলের মালা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুঁড়ে ঘর, কুড়াল, কুমির, কুলা, কেটলি, কোদাল ও খেজুর গাছ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া তালিকায় রাখা হয়েছে ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চিরুনি, চেয়ার, ছড়ি, ছাতা, জগ, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোতলা বাস, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, প্রজাপতি, ফুলের ঝুড়ি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বেবী টেক্সি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মাথাল, মিনার, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল, মোড়া, মোবাইল ফোন, মোমবাতি, মোরগ, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, সোফা, হরিণ, হাঁস, হাত, হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক এবং ‘না’ প্রতীক।
একক প্রার্থীর ক্ষেত্রেও থাকবে ভোটের সুযোগ
বিজ্ঞাপন
সংশোধিত বিধিমালায় কোনো নির্বাচনী আসনে মাত্র একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকলে ব্যালটে ‘না’ প্রতীক রাখার বিধান করা হয়েছে। এর ফলে একক প্রার্থী থাকলেও ভোটাররা ওই প্রার্থীকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনী ব্যয়ের নিয়মেও পরিবর্তন
নির্বাচনী অর্থব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রেও সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া প্রার্থীর তথ্যসংক্রান্ত সংযুক্তিতে ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে আদালত কর্তৃক যার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা চার্জ গঠন করা হয়েছে, তাকেই অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় এসব তথ্য প্রদানকে ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
ইসির এই সংশোধনের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ, একক প্রার্থী থাকলে ভোটারের মতামত প্রকাশ এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধান কার্যকর হবে।








