Logo

আজ আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস : পুরুষের চেয়ে কেন পিছিয়ে নারীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬
আজ আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস : পুরুষের চেয়ে কেন পিছিয়ে নারীরা
ছবি: সংগৃহীত

নারী ও পুরুষের আয়ের বৈষম্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস। কর্মক্ষেত্রে সমান অবদান রাখলেও বিশ্বের অনেক দেশে এখনো নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে নারী ও পুরুষের গড় মজুরি ব্যবধান প্রায় ২০ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এই ব্যবধান বোঝাতে বলা হয়, পুরুষ কর্মীরা বছরের যে সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় অর্জন করেন, একই আয় পেতে নারীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়। ফলে সমান আয়ের জন্য নারীদের অনেক ক্ষেত্রে বছরের শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

মজুরি বৈষম্যের পেছনে যেসব কারণ

নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও কাঠামোগত বৈষম্য। বিশেষ করে অভিবাসী নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত থাকায় তারা কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সীমিত সামাজিক সুরক্ষার মুখোমুখি হন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া নারীদের ওপর থাকা অবৈতনিক যত্নের দায়িত্বও বৈষম্য বাড়ায়। গৃহস্থালির কাজ, শিশু পালন এবং বয়স্কদের দেখাশোনার মতো কাজে নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন বেশি সময় ব্যয় করেন।

মাতৃত্বজনিত কারণে অনেক কর্মজীবী নারী কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। সন্তানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে তাদের আয় ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির ব্যবধানও বাড়তে পারে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ধারণাও মজুরি বৈষম্যের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞাপন

অগ্রগতি হলেও পরিবর্তনের গতি ধীর

নারী ও পুরুষের সমান মজুরির বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থন বাড়লেও বাস্তবে বৈষম্য দূর করার অগ্রগতি এখনো ধীর। ঐতিহাসিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, সুযোগের অসম বণ্টন এবং সম্পদে সীমিত প্রবেশাধিকার নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং সব নারী ও মেয়ের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবার জন্য উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, শোভন কাজ এবং সমান মূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সমান মজুরি কেন প্রয়োজন

সমান কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গেও জড়িত। সমান মজুরি নিশ্চিত হলে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য কমার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমান মজুরি সংক্রান্ত নীতিতেও সমান মূল্যের কাজের জন্য নারী ও পুরুষের সমান পারিশ্রমিকের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠন, নিয়োগকর্তা এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর আলোচনা ও যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

সমান মজুরি আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা

নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান কমাতে কাজ করছে সমান মজুরি আন্তর্জাতিক জোট। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই জোট সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য কমাতে নীতি গ্রহণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তব পদক্ষেপে সহায়তা করাই এই জোটের অন্যতম লক্ষ্য।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD