Logo

জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৩৩
জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর দাবি, সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতের সদস্যরা ‘না’ ভোট না দেওয়ায় দলটি পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) বইটি প্রকাশ করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দলটির ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে একটি বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় জামায়াত ওই বক্তব্য গ্রহণ করলে দলটির বিভিন্ন প্রশ্নের সমাধান হতে পারত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২৬-এর সংশোধন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলামী’-এর উল্লেখ রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটির সংশোধন নিয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনার সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে দলগুলোর নামের আগে ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংসদে আইনটি পাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের কোনো সদস্য ওই সংশোধনের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেননি। এ বিষয়টি সংসদের রেকর্ডে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইনডাইরেক্টলি’ সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যে বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেটিই পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জামায়াতের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, দলটির নেতারা অনুষ্ঠানে এসে বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে কোনো বই বা বক্তব্যের সমালোচনা ও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কিত চিন্তার প্রসঙ্গ তুলে আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি রাজ্জাকের ওই রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। তবে রাষ্ট্র ও মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে রাজ্জাকের চিন্তাকে আলোচনার উপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ছাড়াও দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD