রাজধানীর নদ-নদী দূষণের ৪২৪ উৎস শনাক্ত: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী দূষণের ৪২৪টি উৎস বা স্থান শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এসব দূষণের উৎস বন্ধে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দূষণের শিকার। শিল্পকারখানার বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে দূষিত পদার্থ নদীতে পড়ছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার প্রথম ধাপ হিসেবে দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু নদী পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নদীতে যাতে নতুন করে দূষিত বর্জ্য প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
নদ-নদী রক্ষায় দূষণের উৎস শনাক্তের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মাগুরার পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জেলার নদী, খাল, জলাশয় ও বৃক্ষসম্পদ সংরক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সংসদের ভেতরে এক ধরনের কথা বলছেন, আবার সংসদের বাইরে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা মিথ্যাচার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে সরকারের আমলেই নিয়োগ হোক, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে কেউ বিপদে পড়বেন না। সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব সরকারকে সহযোগিতা করা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রীর দুই দিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারি সফরসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর মাগুরায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি সেবার মান বাড়ানো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।








