জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবি আইপিডির

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং সম্ভাব্য সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে আইপিডি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি জ্বালানির দাম নির্ধারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আইপিডির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে বর্ধিত জ্বালানি মূল্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের আগে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, কর ও ভ্যাট সাময়িকভাবে সমন্বয় করে ভোক্তার ওপর চাপ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
সবার জন্য ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে কৃষি সেচ, গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবার জন্য ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি সহায়তা চালুর পরামর্শ দিয়েছে আইপিডি।
ডিজেলনির্ভর কৃষি কমাতে দ্রুত সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের সহজ অর্থায়ন ও প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অপচয়, অদক্ষতা, সিস্টেম লস এবং উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জের কাঠামো স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত জ্বালানি মজুত, গণপরিবহন, রেল ও নৌপথের উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনকে সমন্বিত করে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও বলেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
আইপিডির মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়ে শুধু মূল্য বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার পরিবর্তে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, গণপরিবহন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে জ্বালানি মূল্যনীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সংগঠনটি বলেছে, উৎপাদনশীল খাতের সুরক্ষা, জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।








