Logo

দুই বছর অনুপস্থিত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বরখাস্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩৩
দুই বছর অনুপস্থিত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

কর্মস্থলে অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি আদেশের প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আরাফাতকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনি সর্বশেষ খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, হাসান আরাফাত ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করেন।

তবে তার আবেদনের বিষয়টি যাচাই করতে স্কয়ার হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তার হাসপাতালে ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এরপর তাকে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। তবে তিনি এসব নোটিশের কোনো জবাব দেননি।

বিজ্ঞাপন

নথিতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় অসদাচরণ ও পলায়ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র পাঠানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ মার্চ হাসান আরাফাতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

অভিযোগের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর ৫ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন—এ বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়।

গত ১৯ আগস্ট পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হাসান আরাফাতের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি তাকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার অনুমোদন দেন।

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী হাসান আরাফাতকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD