Logo

বিশ্বমঞ্চেও তারেক রহমানের কণ্ঠে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩
বিশ্বমঞ্চেও তারেক রহমানের কণ্ঠে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রত্যয় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারী ও তরুণদের অগ্রাধিকার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

দেশ পরিচালনায় সরকারের ভিশন তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তার ভাষায়, আগের সময়ের গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো সমস্যাগুলো থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।

বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকারের কৌশল হিসেবে ‘থ্রি আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে থাকা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগে বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হওয়ায় নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায় সরকার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে পরিবার ও নাগরিক পর্যায়ে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও নতুন প্রযুক্তির যুগে প্রবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সুযোগ যেন কেবল কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই উত্তরণকে টেকসই করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জরুরি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর কথা বলেন।

ভাষণের শেষদিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং শিশুরা তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।

এরপর তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ।” একই সঙ্গে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD