Logo

‘সাইবার আইন সংশোধন ছাড়া পাস হলে দেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৪৫
‘সাইবার আইন সংশোধন ছাড়া পাস হলে দেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে’
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া পাস হলে বাংলাদেশ ‘একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধন ছাড়া যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’

সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান কাঠামোয় আইনটি পাস হলে গণমাধ্যমের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, সরকার আইনটি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আরেকটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রুপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে সবাই কোনো না কোনোভাবে সাইবার জগতের অংশ। গণমাধ্যমের অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল কার্যক্রমও রয়েছে। তাই সাইবার অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে গিয়ে এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের ওপর পড়ে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে এসব বিধান বিভিন্নভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি অপরাধের ক্ষেত্রে দুই, পাঁচ ও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মোবাইল কোর্টের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, কোনো প্রতিবেদনের কারণে একজন সাংবাদিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দেওয়া হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘একটা রিপোর্টার ধরেন, সে একটা রিপোর্ট করতেছে, সেই রিপোর্টার কি মোবাইল কোর্টের জাজমেন্ট হইতে পারে? আমাদের ধারণা এবং আমাদের যে বিষয়, মোবাইল কোর্টের প্রভিশনটা ছিল সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত।’

মাহফুজ আনাম আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের এমন বিধান কীভাবে প্রস্তাবিত আইনে যুক্ত হলো, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে খসড়াটি কারা এবং কী ধরনের চিন্তা থেকে তৈরি করেছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এমন প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও পছন্দ না হলে কিংবা কেউ মনে করলে তার মানহানি হয়েছে, সেই অভিযোগে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন দরকার আছে। সেটা হচ্ছে যারা সাইবার জগতে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম করে তাদের জন্য। এখন যদি সেটা মিডিয়ার ওপরে পড়ে, ধরেন আপনার একটা রিপোর্ট করতেছেন বা কেউ ক্ষুব্ধ হইলো, সে এখন আপনার ওপর মামলা করে দিলো, মালিকসহ মামলা করে দিলো, সে অ্যারেস্ট হইলো বা মোবাইল কোর্ট যদি থাকে, আপনার সাথে সাথে ধরেন আপনি রিপোর্ট করলেন, আপনি রাস্তায় যাচ্ছেন, আপনাকে ধরে নিয়ে গেলো। তো এটা তো হইতে পারে না।’

আব্দুস সালাম আরও বলেন, এভাবে সাংবাদিকদের ওপর আইন প্রয়োগ হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সাইবার অপরাধ দমনে আইন প্রয়োজন হলেও মূলধারার গণমাধ্যম, ডিজিটাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার ফ্রিডম থাকতে হবে এবং আমাদের সুরক্ষাও থাকতে হবে, প্রোটেকশনও থাকতে হবে।’ এ বিষয়ে আরও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং সরকার সেগুলো বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD