Logo

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে, চাকরিচ্যুত ইসির কর্মচারী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:১২
অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে, চাকরিচ্যুত ইসির কর্মচারী
ছবি: সংগৃহীত

ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে ফেরেননি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারী। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, মোছা. ফাতেমা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ শাখার আদেশে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন ফাতেমা খাতুন। নতুন জন্মনিবন্ধন নম্বর ও পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে৫৮৭ ফ্লাইটে তিনি দেশত্যাগ করেন। তদন্তে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের তথ্যও পাওয়া যায়।

কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর কুষ্টিয়ার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিন অনুসন্ধান করেন। এতে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ফাতেমা খাতুনের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই ২৭ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন তিনি। তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বসবাসের ঠিকানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে তিনি সপরিবারে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

পরে অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রা এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০১/২০২৬ রুজু করা হয়।

গত ৯ এপ্রিল তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠানো হয়। তবে তিনি কিংবা তার পক্ষে কেউ সেগুলো গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের জবাব কিংবা ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন না পাওয়ায় বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ঝিনাইদহের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। ইমিগ্রেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তে দেখা যায়, অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ফাতেমা খাতুন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও তদন্ত কর্মকর্তা সফল হননি। পরে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এরপর চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিধিতে নির্ধারিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট জারি করা ওই নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশটি তার সর্বশেষ বাসস্থানে টাঙিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড ডাকযোগেও পাঠানো হয়। তবে তিনি বা তার পক্ষে কেউ নোটিশ গ্রহণ করেননি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪-এর উপবিধি ৩-এর দফা ‘গ’ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে এ দণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চূড়ান্ত আদেশে মোছা. ফাতেমা খাতুনকে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে চাকরি থেকে অপসারণের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD