Logo

একই দাগে সরকারি-বেসরকারি জমি, আলাদা নামজারির নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৫
একই দাগে সরকারি-বেসরকারি জমি, আলাদা নামজারির নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

একই দাগের জমিতে সরকারি বা খাস জমির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের আলাদা নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একই দাগে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই।

পরিপত্র অনুযায়ী, এক বা একাধিক দাগে দুই ধরনের মালিকানার জমি একসঙ্গে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথকভাবে সেগুলো চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এজন্য সাবেক ও বর্তমান রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। জমি পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে সরেজমিনে বাস্তব অবস্থা যাচাই করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।

এ সময় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশ আলাদাভাবে চিহ্নিত করে একটি যৌথ স্বাক্ষরিত খণ্ড নকশা প্রস্তুত করতে হবে। প্রয়োজন হলে শুনানি গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নামজারি আবেদনের ভিত্তিতে জমি পৃথক করার জন্য আলাদা কোনো বিবিধ কেস নথি খোলার প্রয়োজন নেই। নামজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে কিংবা সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিকের আবেদনের ভিত্তিতে জমি পৃথক করার প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি তৈরি করতে হবে।

ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি কেবল তফসিলে উল্লেখ করা ওই অংশের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। একই দাগ বা খতিয়ানে থাকা অবশিষ্ট খাস কিংবা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির ওপর ওই নামজারির মাধ্যমে সৃষ্ট খতিয়ানের মালিকদের কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নামজারির আওতার বাইরে থাকবে। একই দাগে এমন জমি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন করা হলে সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ছাড়া সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে কিংবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে সেটি বিবেচনায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের আদেশে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইন অনুসারে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনা কার্যকর করতে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও নতুন ফিচার যুক্ত করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এজন্য প্রকল্প পরিচালককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD