Logo

ইকবাল রোড পার্কে নগরজীবনে মিলছে স্বস্তির সবুজ পরশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫৫
ইকবাল রোড পার্কে নগরজীবনে মিলছে স্বস্তির সবুজ পরশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে ইট-পাথরের ভিড় আর যানজটের ক্লান্তি যখন মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলে, তখন মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড পার্ক ও সংলগ্ন খেলার মাঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের স্বস্তির জায়গা। পরিকল্পিত সবুজায়ন, আধুনিক স্থাপনা, খেলার মাঠ এবং পরিচ্ছন্ন হাঁটার পথের কারণে প্রতিদিনই এখানে সময় কাটাতে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড পার্ক ও মাঠ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারপাশের প্রশস্ত সড়কের মাঝখানে লোহার বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা সবুজে ঢাকা মাঠটি বেশ আকর্ষণীয়। মাঠের চারদিকে রয়েছে গাছপালা ও পরিচ্ছন্ন ওয়াকওয়ে। সেখানে বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়।

খেলার মাঠে একসঙ্গে খেলাধুলা চললেও ওয়াকওয়ে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় মাঠের চারপাশে রয়েছে পৃথক লোহার বেষ্টনী। ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও রঙিন ফুলের সমারোহ পরিবেশটিকে আরও মনোরম করে তুলেছে। কিছু দূর পরপর রয়েছে বসার জন্য নান্দনিক বেঞ্চ। পার্কের এক পাশে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রবেশপথের কংক্রিটের তৈরি বড় গেটটিও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ইকবাল রোডের এক বাসিন্দার ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন মাহবুব। মালিককে অফিসে আনা-নেওয়ার সময় অবসর পেলে তিনি প্রায়ই পার্কে বসে সময় কাটান। মঙ্গলবারও তাকে পার্কে বসে থাকতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

মাহবুব বলেন, ‘সাজানো গোছানো একটা পার্ক। প্রায় প্রতিদিনই পার্কে আসা হয়। পাশেই ম্যাডামের বাসা। ম্যাডাম বাসায় গেলে আমি সাধারণত পার্কে বসে সময় কাটাই। নিরিবিলি পরিবেশে বসে থাকতেও ভালো লাগে। গাড়ির মধ্যে বসে থাকলে এসি ছেড়ে বসে থাকতে হয়। তাই ম্যাডামকে নামিয়ে দিয়ে আমি পার্কে বসে থাকি। বাচ্চারা খেলা করে, আমি দেখি।’

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এশাকে নিয়ে পার্কে এসেছিলেন তার মা আসমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলেই বাচ্চাকে নিয়ে পার্কে আসি। বাচ্চা খেলাধুলা করে, আমি হাঁটাহাঁটি করি। এতে একদিকে বাচ্চারও মানসিক বিকাশ হচ্ছে, অন্যদিকে আমারও একটু হাঁটাহাঁটি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত যেদিন সারাদিন বাসায় আবদ্ধ থাকি সেদিন মন-মেজাজ ভালো লাগে না। ঠিকঠাক ঘুমও হয় না। তাই পাশেই বাসা হওয়ার কারণে নিয়মিত আসা হয়। পার্কের পরিবেশটা ভালো হওয়ায় দেখা যায়, যেদিন দিনের বেলা আসতে পারি না সেদিন সন্ধ্যার দিকেও মাঝেমধ্যে হাঁটতে আসি।’

বিজ্ঞাপন

মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত ছিল স্কুলছাত্র রবিন হাসান। সে বলে, ‘আমরা প্রতিদিনই মাঠে খেলাধুলা করি। সাধারণত স্কুল ছুটির পর যার যার কাজ শেষ করে খেলতে আসি। সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলাধুলা চলে, তারপর কিছুসময় বসে সবাই আড্ডা দিয়ে যে যার যার বাসায় ফিরে যাই।’

পার্কে দায়িত্ব পালন করা এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, সপ্তাহের সাত দিনই পার্কটি খোলা থাকে। ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত এখানে মানুষের আনাগোনা থাকে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে পার্কের বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে ডাস্টবিন। পাশাপাশি ইকবাল রোড পার্ক ও ফিল্ড ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন বোর্ডও রয়েছে। সেখানে পার্কের সৌন্দর্য রক্ষায় গাছের ফল ও পাতা না ছেঁড়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মাঠ ও পার্ক পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে ভেতরে খাবার নিয়ে প্রবেশ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পার্কের প্রধান ফটকের কাছেই মাঠ ও পার্ক ব্যবহারের সময়সূচি এবং বিভিন্ন নিয়ম উল্লেখ করা রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, মাঠের গেট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, অর্থাৎ মাগরিবের আজান পর্যন্ত খোলা থাকে। অন্যদিকে পার্ক সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এরপর মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিয়মাবলিতে মাঠে স্পাইক বুট পরে খেলতে নিষেধ করা হয়েছে। ওয়াকওয়েতে সাইকেল চালানো, মাঠ ও পার্কে খাবার নিয়ে প্রবেশ এবং ধূমপানও নিষিদ্ধ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে খেলোয়াড়দের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর মাঠে সংরক্ষিত রেজিস্টারে লিখে রাখার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মাঠ বা পার্কে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোষা প্রাণী নিয়েও মাঠ ও পার্কে প্রবেশ করা যাবে না বলে নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD