Logo

সকালে ও সন্ধ্যায় ২০ মিনিটের পথেই লাগছে দুই ঘণ্টা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪১
সকালে ও সন্ধ্যায় ২০ মিনিটের পথেই লাগছে দুই ঘণ্টা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সড়ক খনন ও পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলায় তীব্র যানজটে পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহনকর্মীরা। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে রামপুরা থেকে নতুনবাজার হয়ে কুড়িল পর্যন্ত সড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। ২০ থেকে ৩০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া পথেও এখন অনেক সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়েন জাওয়াদ রাফি। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রায় প্রতিদিন মেরুল বাড্ডা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয় তাকে। স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে পৌঁছাতে পারলেও বর্তমানে কখনো কখনো সময় লাগছে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

জাওয়াদ বলেন, ‘যখন রাস্তার কাজ ছিল না, তখন সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে যেতাম। এখনো সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে বের হলে ২৫ থেকে ৩০ মিনিটে পৌঁছে যাই। তবে ৯টার পরে বের হলে এক ঘণ্টার বেশি সময়ও লাগে। বিশেষ করে নতুনবাজার থেকে এই জ্যাম শুরু হয়।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিকেল ৪টার আগে ফিরলে অল্প সময়েই পৌঁছানো যায়। কিন্তু ৪টার পরে হলে আবার এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।’

শুধু জাওয়াদ নন, প্রগতি সরণি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী অনেক যাত্রীই একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজ থেকে মধ্যবাড্ডা পর্যন্ত এবং সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিংমল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খননকাজ চলছে। কোথাও সড়কের মাঝখানে, আবার কোথাও রাস্তার পাশ দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। এতে যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে বাস দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। খননকাজের কারণে এমনিতেই সংকুচিত সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রগতি সরণিতে ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আগে এমআরটি লাইন-১-এর ইউটিলিটি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় কাজ করার অনুমতি পায় ঢাকা ওয়াসা।

গত ১০ মে থেকে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। কাজের কারণে কোথাও চার লেনের মধ্যে দুটি লেন বন্ধ রেখে যানবাহন চলাচল করছে। আবার কিছু অংশে চারটি লেনই খোলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যাত্রাপথের ভোগান্তি নিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, কুড়িল থেকে নতুনবাজার যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানজট বেশি থাকে। ফলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাসা থেকে বের হতে হয়।

দীর্ঘ যানজটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমরা সাড়ে চার থেকে পাঁচটা ট্রিপ মারতাম। কিন্তু এখন এই যানজটের কারণে সেটা তিন থেকে সাড়ে তিনটা হচ্ছে। আবার একই কারণে যাত্রীরাও মাঝপথে নেমে যায়, ভাড়া দিতেও সমস্যা করে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রায় এক যুগ ধরে পরিবহন চালাচ্ছেন শাহাদাত হোসেন। তার মতে, অফিস সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার চাপও যানজট বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘অফিস টাইমে সবাই একসঙ্গে বের হয়। বিশেষ করে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও রিকশা। গণপরিবহন তো এত বেশি না যে জ্যাম লাগাবে। এই প্রাইভেটকার আর সিএনজি-রিকশা এই রাস্তার ক্যানসার।’

বিজ্ঞাপন

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘যাদের কারণে শুধু আমার সমস্যা হচ্ছে, এমনটা নয়। প্রত্যেকটা যাত্রীর দুর্ভোগ। রাস্তায় কাজ চলছে, সেটা তো আমাদের সবার ভালোর জন্যই হচ্ছে। একটু জ্যাম হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অফিসে আসা এবং ফেরার এই দুই সময়ে যে জ্যাম হয়, এর বড় কারণ প্রাইভেটকার এবং সিএনজি-রিকশা।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD