Logo

ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্যে নামাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:২৮
ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্যে নামাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে চিকিৎসা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম একসঙ্গে জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ডেঙ্গুরোগী কোথা থেকে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই তথ্য শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা।’

মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৯ জনের। সেপ্টেম্বরে নগরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে সতর্ক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক কম থাকলেও সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অক্টোবরেও থেমে থেমে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘তিন দিনের জমা পানি রাখা যাবে না পানি ফেলে দিতে হবে।’

নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, ফুলের টব, বাসাবাড়ির আঙিনা, খোলা বারান্দা, এসির পানির ট্রে এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসব উৎস ধ্বংস করা না গেলে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন মেয়র।

ব্যবহৃত ডাবের খোসায় পানি জমেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি সেগুলো দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান ঠিকানা সংগ্রহ না করে রোগী কোথায় ছিলেন, কোন কোন এলাকায় যাতায়াত করেছেন এবং সম্ভাব্য কোথা থেকে সংক্রমিত হয়েছেন—এসব তথ্যও সংগ্রহের পরামর্শ দেন মেয়র।

তিনি বলেন, সংক্রমণের স্থান সঠিকভাবে শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মশক নিধন, লার্ভিসাইড প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ও জাপানিজ এনসেফালাইটিসের মতো অন্যান্য রোগের বিষয়েও চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মেয়র বলেন, ‘ডিফারেনসিয়াল ডায়াগনোসিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব জ্বরকে ডেঙ্গু ধরে নেওয়া যাবে না। রোগীর সঠিক ইতিহাস ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র জানান, লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃত বিটিআই (ব্যাসিলাস থুরিংয়েনসিস ইসরাইলেন্সিস) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনে অ্যাডাল্টিসাইড এবং লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে।

মশক নিয়ন্ত্রণে সময়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্ট মশা নিধনের কার্যক্রম পৃথক সময়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চসিক মেয়র বলেন, নগরের হালিশহর, কোতোয়ালি, পাহাড়তলী, বন্দর, আকবর শাহ, ফিরোজশাহ, অক্সিজেন ও বাকলিয়া এলাকায় তুলনামূলক বেশি ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিসংখ্যানভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, ‘আবেগ বা গুজবের ভিত্তিতে নয়, তথ্যের ভিত্তিতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় ডেঙ্গুরোগী দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা, জটিলতা প্রতিরোধ এবং সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD