দুর্গাপূজায় বাড়ছে ১৫০০ মণ্ডপ, অ্যাপে চলবে সার্বক্ষণিক নজরদারি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নির্বাচনকালে ব্যবহৃত জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপও ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব বণ্টনও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রশংসনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এবার সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি। তার ভাষ্য, মণ্ডপের সংখ্যা বাড়াকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তাবোধের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।
নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে এনটিএমসির অ্যাপ
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জানতে এনটিএমসির একটি অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্বাচনকালে ব্যবহৃত এই অ্যাপটি এবার দুর্গাপূজার সময়ও কাজে লাগানো হবে। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
কোনো মণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়াই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম থাকবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে।
পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করা হয়েছে। যাচাই শেষে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ সরবরাহে বিকল্প ব্যবস্থা
পূজামণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেনারেটর কোনো কারণে অচল হলে বিকল্প হিসেবে চার্জার লাইট রাখার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিন দিনের সরকারি ছুটি
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি এক দিন বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের তথ্য নেই
দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ বা ভালনারেবল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং সবাই সতর্ক অবস্থানে আছেন। কোনো স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট বা মানিকগঞ্জে প্রতিমা ভাঙচুরের খবরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত কোনো তথ্য সঠিক হলে পুলিশ প্রধান বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নয়
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তার ভাষ্য, কোনো একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা ফ্রন্টসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।








