মালয়েশিয়ায় দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হবে: শ্রমমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানির অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এবার এসব সমস্যা এড়াতে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় আগের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়রানি যেন পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী আমাদের বোয়েসেল এবং অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাবে। শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তারা দেশটিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ কারণে আগে চাহিদা নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেটা চয়েস করবেন, তারপরে আমরা যাবো।’
শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের পাশাপাশি অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করার কথা জানান মন্ত্রী। তবে কর্মী পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শ্রমমন্ত্রী।
তিনি জানান, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী চাহিদার একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পখাতে কতসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী প্রয়োজন, তা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।








