এবারের দুর্গাপূজা আনন্দের পাশাপাশি গভীর স্বস্তি এনে দিয়েছে

এবারের দুর্গাপূজা আনন্দের পাশাপাশি গভীর স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পূজামণ্ডপের ছবি, মানুষের উচ্ছ্বাস এবং উৎসবের অভিজ্ঞতা দেখে প্রাণবন্ত ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।
দুর্গাপূজার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জানান আন্তরিক অভিনন্দন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণখোলা আনন্দ ও উৎসবের আয়োজন দেশজুড়ে দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে। ভারত থেকে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশকে কাছ থেকে দেখে তাদের মুগ্ধ হওয়া এবং আগের ধারণা বদলে যাওয়ার কথা শুনে ভালো লেগেছে বলে জানান এই রাষ্ট্রদূত।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি পরিচয় অনেক সময় দীর্ঘদিনের প্রচারণার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি রাজনৈতিক ধারণা প্রচার করা হয়েছে, যেন একটি নির্দিষ্ট দলই দেশের হিন্দু নাগরিকদের নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা। মুশফিকুল ফজল আনসারীর ভাষায়, এই ‘মনোপলি ব্যবসায়’ অনেক আগেই ধস নেমেছে। বাংলাদেশের মানুষের সহাবস্থান ও পারস্পরিক আস্থাকে রাজনৈতিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনার দিন শেষ।
সংকটের সময়ে প্রতিবেশীর উপাসনালয় রক্ষায় এগিয়ে আসাকে সংহতির পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তবে তার মতে, এই সংহতি পূর্ণতা পায় তখনই, যখন প্রত্যেকে নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন এবং উৎসবের আনন্দে অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এবারের দুর্গাপূজার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উৎসবের দিনগুলোতে যে আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ দেখা গেছে, তা বছরের প্রতিটি দিন ধরে রাখার আহ্বান জানান। কোথাও অন্যায় ঘটলে তার প্রতিকারেও একই দৃঢ়তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনে বৈচিত্র্য রয়েছে। এই বৈচিত্র্য নিয়েই বাংলাদেশ সবার সমান আপন ঠিকানা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সম্প্রীতির বন্ধন আরও গভীর হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।








