‘আব্বু আমাকে ব্যবসায়ী বানাতে চেয়েছিল, তা আর হলো না’

সৌদি আরবে হামলায় নিহত বাবা মো. শাহেদ আহম্মেদের কথা বলতে গিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে নিজের কষ্টের কথা জানায় ১০ বছর বয়সী কাউসার। বাবার মৃত্যুর শোকের মধ্যেও তার মনে গেঁথে আছে বাবার একটি স্বপ্ন—ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেছে শাহেদের জীবন।
বিজ্ঞাপন
কাউসার জানায়, স্কুল থেকে ফেরার পর তার মা প্রথমে বাবার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। পরদিন সে জানতে পারে, বাবা আর বেঁচে নেই। বাবার মরদেহ দেশে ফিরেছে, কিন্তু তাঁকে আর কখনো কাছে পাওয়া যাবে না—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে ছোট্ট শিশুটির জন্য।
কাউসার বলে, “আমি ঠিক জানতাম না, আমার আব্বুর সঙ্গে এমন ঘটনা হবে। আব্বু বিমান থেকে নামার পর শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি। আমি স্কুল থেকে ফেরার পর মা বলে—তোমার আব্বুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরের দিন শুনি, আব্বু মারা গেছে।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাবার সঙ্গে বিশেষ কোনো স্মৃতির কথা জানতে চাইলে কাউসার জানায়, তেমন কিছু মনে পড়ে না তার। তবে ছেলেকে ঘিরে বাবার স্বপ্নের কথা মনে আছে। শাহেদ চেয়েছিলেন, লেখাপড়া শিখে তাঁর ছেলে একদিন ব্যবসায়ী হবে।
বিজ্ঞাপন
কাউসারের ভাষায়, “আব্বু আমাকে ব্যবসায়ী বানাতে চাচ্ছিল। লেখাপড়া শিখিয়ে বিজনেসম্যান করার চেষ্টা করেছিল, তা আর হলো না।”
দেশে ফিরেছে শাহেদের মরদেহ
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
২২ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাহেদের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-৩৬২। শুক্রবার সকালে মরদেহবাহী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সরকারি সহায়তার চেক পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
বাবাকে হারিয়ে শোকের ভার বইছে কাউসার ও তার পরিবার। শাহেদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ এখন বাবাহীন এক শিশুকে একাই পাড়ি দিতে হবে।








