প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিত করেছে অধিদপ্তর। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ বিক্ষোভ হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাঁরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।
রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয়, বাংলা কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজ ও শাপলা চত্বর এলাকায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।
পরীক্ষা স্থগিত, ভোগান্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে হতাশ হয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থী রুমা রানা বলেন, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে কতজনই বা ঢাকায় থাকেন? জেলা শহর থেকে ধারদেনা করে, সারা রাত ভ্রমণ করে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসেন। পরীক্ষা শেষ করেই তাঁদের বাড়ি ফিরতে হয়। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে তাঁরা জানতে পারেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরিশ্রম, আর্থিক ক্ষতি ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের দায় কে নেবে? রাষ্ট্র কেন এখনো প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না? লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি আর কত দিন চলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রুমা রানা প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে মহামারি আকার ধারণ করা সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি
বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম বলেন, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আন্দোলন করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞাপন
২৪২ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী তিন লাখের বেশি
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ১১তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এখন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।








