Logo

সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে শত কোটি টাকার অনিয়ম, দুদকের অনুসন্ধান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৪৭
সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে শত কোটি টাকার অনিয়ম, দুদকের অনুসন্ধান
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।

তিনি জানান, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সাল থেকে সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার সিস্টেমটিতে ত্রুটি দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিস্টেমটির মেরামত ও সংস্কার করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে এর সংস্কার ও মেরামতের দায়িত্বও একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

৯ কোটি টাকার বরাদ্দে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

সাবেক সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

এদিকে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

বিজ্ঞাপন

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের জন্য অনুসন্ধানের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD