Logo

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, চুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, সরকারি ভর্তুকির চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচ বহন করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই মডেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ১৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়।

একইভাবে, ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনায় আইনি কাঠামো নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এই ঘাটতি দূর করতেই নতুন অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিনিয়োগ, চুক্তির শর্ত, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুস্পষ্ট নিয়মকানুন প্রণয়ন এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞাপন

খসড়া তৈরির কারণ হিসেবে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে এ-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের অনুপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়বে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং উদ্যোগটির বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশের বিধান বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD