Logo

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় খুলবে নতুন দিগন্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৩
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় খুলবে নতুন দিগন্ত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তাঁর মতে, এই প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) আয়োজনে বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ক্রিটিক্যালিটি গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। শিগগিরই জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে কেন্দ্রটি দেশের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এর নিরাপদ পরিচালনা, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

সচিবের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেই পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা এবং নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা থাকতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনাগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেশের পারমাণবিক খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করবে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের ভূমিকা তুলে ধরে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আইএইএসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ন্যায্য অবস্থান ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা দেশে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও টেকসই পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিজ্ঞাপন

সভাপতির বক্তব্যে বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আইএইএর প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। দেশের পারমাণবিক খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আইএইএ, বায়েরা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতায় চার সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত এই কোর্সে পারমাণবিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আইএইএর চার কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ রাহিলা হাম্মাদ, বেনোইট গ্যাব্রিয়েল, মেহমেত তোম্বাকোগল এবং বারিস গুরনার অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের পাশাপাশি দেশীয় বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরাও প্রশিক্ষণ দেবেন।

কোর্সে বায়েরা, বায়েক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীসহ মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

রবিবার শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হবে এবং নিরাপদ পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD