Logo

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা, দেবীর আরাধনায় মুখর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯
আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা, দেবীর আরাধনায় মুখর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
ছবি: সংগৃহীত

দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী তিথিতে বিশেষ ধর্মীয় আচার হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপ কল্পনা করে তাঁকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হিন্দুধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী পূজার জন্য নির্বাচন করা হয়। তাঁর মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ কল্পনা করে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে পূজা নিবেদন করা হয়। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায় কুমারীর মধ্যে পবিত্র মাতৃরূপ উপলব্ধি করাকে এ পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম ও দেবীর রূপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর বয়সী কন্যা সন্ধ্যা, দুই বছরে সরস্বতী, তিন বছরে ত্রিধামূর্তি, চার বছরে কালিকা, পাঁচ বছরে সুভাগা, ছয় বছরে উমা এবং সাত বছরে মালিনী নামে পরিচিত। একইভাবে আট বছরে কুব্জিকা, নয় বছরে কালসন্দর্ভা, ১০ বছরে অপরাজিতা, ১১ বছরে রুদ্রাণী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরে পীঠনায়িকা, ১৫ বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছরে অন্নদা নামে পূজার প্রচলন রয়েছে।

কুমারী পূজার প্রস্তুতিও বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। নির্বাচিত কন্যাকে সকালে স্নান করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা এবং হাতে ফুল দিয়ে তাঁকে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয়। এরপর ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাচারের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা সম্পন্ন করা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও স্তোত্রপাঠে পূজামণ্ডপের পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কুমারী পূজার ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা। পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতদের মতে, আধুনিক সমাজে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হলে নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নারীকে শুধু স্ত্রী বা সহযোগীর পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর মর্যাদা, শক্তি ও মাতৃসত্তার প্রতীক হিসেবেও শ্রদ্ধা জানানোর শিক্ষা দেয় এই আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এই বিশ্বাস থেকেই মহাঅষ্টমীতে কুমারীকে দেবীর প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করে সমগ্র নারীসমাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্তরা। তাঁদের কাছে কুমারী পূজা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং নারীশক্তির প্রতি সম্মান ও মাতৃভাবনার প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দুর্গোৎসবের শেষ পর্ব ঘিরেও প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রাটি সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে পৌঁছানোর পর সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আয়োজন, আর ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন আগামী বছরের অপেক্ষায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD