সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা হন এমপি-মন্ত্রী, আর দুর্নীতিবাজরা নেতা: স্পিকার

সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন, আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা নেতৃত্বে চলে আসেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ভালো মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। সংসদে রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করা যায়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশে এমন পরিস্থিতি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে আল্লাহর রহমতে দেশে সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
বিদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে স্পিকারের দাবি
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন স্পিকার। তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যে জাবেদের ৪০০টি বাড়ি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব বাড়ির অবস্থান উল্লেখ করে চিঠি দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার এ পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও দাবি করেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুবাইয়ে ১০০টি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০টি এবং কানাডায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থ লুট করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ অর্জন নিয়ে অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির নেতাকর্মীরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইংল্যান্ডে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কানাডার বেগমপাড়ায় লুটপাটের অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে।
স্পিকারের বক্তব্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিকতা, দুর্নীতি এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো উঠে আসে। তবে বিদেশে সম্পদের পরিমাণ, বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তার বক্তব্যের দাবি হিসেবে বিবেচ্য।








