Logo

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার উত্তপ্ত বিতর্কে অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৭
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার উত্তপ্ত বিতর্কে অধিবেশন স্থগিত করলেন খলিলুর রহমান
খলিলুর রহমান | ফাইল ছবি

কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ কিউবার শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লা ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে চিৎকার করতে থাকেন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি ঠুকে তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তাতে উত্তেজনা কমেনি।

বাক্যবিনিময় থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বিজ্ঞাপন

কিউবার প্রতিনিধিদলের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ওয়াল্টজ বলেন, “আমি আশা করি, জনাব সভাপতি, সবাই এখন প্রতিনিধিদলের আচরণ শুনছেন।”

এরপর কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন তুললে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জবাবে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে আরও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওয়াল্টজ বলেন, “এটি আমেরিকা, এটি জাতিসংঘ। এটি আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে কিংবা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।”

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাঁকে বক্তৃতামঞ্চ থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না এবং তিনি দেশটির প্রতিনিধি।

অধিবেশন স্থগিত করে পরিস্থিতি সামাল দেন খলিলুর রহমান

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন খলিলুর রহমান। পরে জাতিসংঘের অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম ব্যাখ্যা করে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রক্রিয়াগত বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেন তিনি। তবে ওয়াল্টজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা না করার শর্ত দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর নিজের আসনে ফিরে রদ্রিগেজ পারিল্লা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। ওয়াল্টজের বক্তব্যকে তিনি ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন।

পরে বড় ধরনের আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোকে আলোচ্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রদ্রিগেজ পারিল্লা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করেন, ঔদ্ধত্য ও অহংকারের কারণে ওয়াল্টজ ভুলে গেছেন যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নন। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী গ্রিন বেরেটসের কোনো ইউনিট কিংবা সিগন্যালের কোনো গ্রুপেও নেই বলে মন্তব্য করেন। এসব ক্ষেত্রে ওয়াল্টজ নিজের অযোগ্যতা ও অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগে সিগন্যাল গ্রুপ বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন ওয়াল্টজ

বিজ্ঞাপন

ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক সদস্য। এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

গত বছর ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য তৈরি একটি সিগন্যাল গ্রুপে ভুলবশত এক সাংবাদিককে যুক্ত করার ঘটনা সামনে আসে। ওই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্টজকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। একই সময়ে তিনি ঘোষণা করেন, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD