Logo

দেশের শান্তি ও অর্থনীতি নিয়ে ষড়যন্ত্র বরদাশত করব না: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
খুলনা
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:৩৫
দেশের শান্তি ও অর্থনীতি নিয়ে ষড়যন্ত্র বরদাশত করব না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে যেভাবে স্বৈরাচারকে জনগণ জবাব দিয়েছিল, প্রয়োজনে আবারও একইভাবে জবাব দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করার পর সরকার দ্রুত তাদের দাবির বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য মজুরি কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং কমিশনও কাজ করেছে। আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন ও মজুরি পাবেন বলে কমিশন জানিয়েছে।

তবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে একটি গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব দুষ্কৃতকারী শিল্পকারখানা ও জনগণের সম্পদের ক্ষতি করছে। ২০২৪ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে দেশত্যাগ করা ফ্যাসিবাদী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়। পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। সরকারও জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং শিল্পকারখানা ও সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু করেছিলেন। গত পাঁচ দশকে দেশের শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিশ্রমে এ শিল্প শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্র করে দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, দেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা রক্ষায় আবারও সেভাবে সোচ্চার হতে হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি সব সময় জনগণের পাশে ছিল। এ কারণেই বিএনপি মনে করে, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণ যখনই দলটিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখনই দেশের স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেছে।

শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্য হলো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত করা। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে চায় সরকার, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বিদেশে যেতে না হয়।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত ও বিভিন্ন দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের যুবসমাজ যেন দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পায়, সে জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনসংগ্রামে সফল হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জনগণের পারস্পরিক নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ বাঁচলে আপনি বাঁচবেন এই দেশ বাঁচলে আমি বাঁচবো, এই দেশ বাঁচলে জনগণ বাঁচবে। এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। কাজেই যে মালিক তাকে আজ রুখে দাঁড়াতে হবে।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD