Logo

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮:৪৪
৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ধারণের ঐতিহাসিক দিন: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে পথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, ওই দিনের বিপ্লবী চেতনা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক এই দিনের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দিবসটি উদ্‌যাপনে সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, সব সময় অতীতের ইতিহাস নিয়ে ব্যস্ত থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করাও বড় ধরনের ভুল।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাণীতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাকে তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।’

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে যেভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে রাজপথে নেমেছিলেন, ২০২৪ সালেও একইভাবে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

ভবিষ্যতে যেন কোনো শক্তি দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।’

বিজ্ঞাপন

দেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এসব ঐতিহাসিক আন্দোলনের লক্ষ্য একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাণীর শেষাংশে জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে সবার কণ্ঠে উচ্চারিত হোক, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

বিজ্ঞাপন

জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদ্‌যাপন উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD