Logo

জামায়াতের কাছে পাননি সহায়তা, সেই শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:০৭
জামায়াতের কাছে পাননি সহায়তা, সেই শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

একসময় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন সাব্বির প্রামাণিক। রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। শরীরে ৬৪টি সেলাই, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং শারীরিক জটিলতা নিয়ে কেটেছে ১৩ বছরের বেশি সময়। জীবিকা ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে কখনো অটোরিকশা চালিয়েছেন, কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। নিজের রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের কাছে চাকরির জন্য বারবার আবেদন করেও প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে গণমাধ্যমে তাঁর দুর্দশার খবর প্রকাশের পর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী নিজের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে সাব্বিরের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা এবং মাছের খামার দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব-নিকাশও সামলাচ্ছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাঁকে ভালো বেতন দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, সাব্বিরের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে এলে তিনি তাঁর কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞাপন

চাকরি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাব্বিরের জীবনের কঠিন সময় শুরু হয় ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন তিনি। ওই ঘটনায় তাঁর সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন।

সাব্বিরের দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্ত্রোপচার করতে হয়। শরীরে দিতে হয় ৬৪টি সেলাই। এমনকি একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাঁকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি সাব্বির। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক নানা জটিলতা তাঁর কর্মক্ষমতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব সামলাতে অসুস্থ শরীর নিয়েই অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই কাজও চালিয়ে যেতে পারেননি।

একদিকে নিজের চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তা—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

একসময় যে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, দুঃসময়ে সেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছেই সহযোগিতা চেয়েছিলেন সাব্বির। এমনকি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে একটি খোলা চিঠিও লিখেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে সংগঠনের জন্য কাজ করার পরও বিপদের সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে চাকরির জন্য যোগাযোগ করেও কার্যকর সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন সাবেক এই শিবিরকর্মী। তাঁর অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি দলটি।

দীর্ঘ ১৩ বছরের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের পর নতুন চাকরি পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাব্বিরের পরিবারে। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করা সাব্বির শেষ পর্যন্ত ভিন্ন রাজনৈতিক দলের একজন প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কাছে এই চাকরি কেবল আয়ের উৎস নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রামের পর নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD