ফ্যাসিস্টদের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন সফল হতে দেব না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের মানুষকে রক্তাক্ত করেছে, ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং অসংখ্য মানুষকে অন্ধ ও পঙ্গু করেছে, তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড় সরকারি অডিটরিয়াম হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন।
বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। ওই স্বৈরাচার, ওই যারা ফ্যাসিস্ট, যারা ২৪ জুলাইয়ে বাংলাদেশ রক্তাক্ত করেছিল, আমাদের সন্তানদের রক্তাক্ত করেছিল, আমাদের ভাইদের অন্ধ করেছিল, পঙ্গু করেছিল। আমি মনে করি বাংলাদেশে তাদের দিবাস্বপ্ন ইনশাল্লাহ আমরা বাস্তব হতে দেব না।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হাজার হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। কয়েক হাজার ছাত্র, জনতা ও শ্রমিককে পঙ্গু এবং অন্ধ করা হয়েছে। অথচ সেই সময়ের স্বৈরাচারী শক্তির মধ্যে এখনো অনুশোচনা কিংবা আত্মশুদ্ধির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তারা আবারও বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক নেতা নিজেদের জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একজন মানুষ স্ত্রী ও অবুঝ দুই সন্তানের মায়া উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম মেজর জিয়া, দ্য ডিক্লেয়ারার অব ইন্ডিপেন্ডেন্স অব বাংলাদেশ’।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের লেখালেখি হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের সেই সংকটময় মুহূর্তে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার আবু সাইম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এবং জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।








