ওসিকে হুমকি দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাকে শোকজ ও গ্রেফতার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে শোকজ করা হয়েছে। অপরদিকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত শোকজ চিঠিটি মাহদীকে পাঠানো হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ পুলিশ মাহদী হাসানকে হেফাজতে নিয়েছে। কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে শোকজ চিঠি অনুযায়ী, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদীর দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং জনপরিসরে সংগঠনের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। চিঠিতে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ১ জানুয়ারি গভীর রাতে, যখন শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হাসান নয়নকে পুলিশ আটক করে।
পুলিশ জানায়, এটি ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের অংশ। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহদীর ওসির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী হাসান থানার ভেতরে বসে ওসির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের পরিচয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ওসিকে বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনকে আমরা বসিয়েছি।’
এই ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা থানা ঘেরাও এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দাবি করেন, নয়ন হচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির সক্রিয় সদস্য এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে আটক করা হয়েছে। টানা কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পুলিশ নয়নকে অভিভাবকের হেফাজতে মুক্তি দেয়।
বিজ্ঞাপন
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম জানান, নয়নকে আটক করা হয়েছিল ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির অনুসারে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যস্থতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপারের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, নয়নকে মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং পরে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক এবং হুমকি প্রদানের ঘটনা আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন









