হাদি হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে নাম আসা কে এই রহস্যময় বাপ্পী?

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দিতেন মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোডে ডিবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করার কারণে হাদি টার্গেটে পরিণত হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রেক্ষাপটে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা পরিকল্পনা ও নির্দেশে চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডিবি জানায়, সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফয়সাল ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তার সহযোগী হিসেবে আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীরের নামও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তিনজন পলাতক রয়েছেন এবং তারা ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গেছেন। এছাড়া ফয়সালের ভগ্নিপতি ও ফিলিপ নামের আরও একজন পলাতক রয়েছেন। মামলায় ইতিমধ্যেই ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে।

শফিকুল ইসলাম আরও জানান, শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন এবং সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী কার্যক্রম সমালোচনামূলকভাবে প্রকাশ করতেন। এই কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাদিকে লক্ষ্য করে হত্যার পরিকল্পনা করে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন চিকিৎসার পর ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যু ঘটে।
ডিবি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং নতুন তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।








