Logo

২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ঢাকা
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৭
২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যা করার পর টানা ২১ দিন একই ফ্ল্যাটে দুটি লাশ লুকিয়ে রেখে পরিবারসহ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন হত্যার সঙ্গে জড়িতরা—পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এমনই লোমহর্ষক তথ্য।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীম নামের এক শিক্ষিকার ভাড়া বাসা থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং নুসরাতের দুই বোনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ১৪ বছর বয়সী জোবাইদা রহমান ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। ঘটনার পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম জানান, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন রোকেয়া রহমান। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ বিষয় নিয়ে নুসরাত ও রোকেয়ার মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও মনোমালিন্য হয়।

তিনি আরও জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে জোবাইদা ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ১৫ বছর বয়সী বোনের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে ওই কিশোরী।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে নুসরাতের বোন বাসা থেকে বের হয়, যাতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর নুসরাত ফোন করে ফাতেমার অসুস্থতার কথা জানিয়ে রোকেয়াকে বাসায় ডেকে নেন। বাসায় ঢোকার পর পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে এবং রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ওই দুটি মরদেহ ফ্ল্যাটেই রেখে অভিযুক্তরা প্রায় ২১ দিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ওসি সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের ছোট বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD