সাভারে ৭ মাসে ৬ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, ভবঘুরে সম্রাট গ্রেপ্তার

সাভারে গত সাত মাসে সংঘটিত ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে এক ভবঘুরে যুবকের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে। মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এর আগে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে সম্রাটকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে ঘোরাফেরা করতেন। পুলিশের দাবি, গত সাত মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩৩০ সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ করল সিএমপি
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার অপরাধের সূচনা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবককে হত্যা করা হয়। ১১ অক্টোবর রাতে একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে প্রায় ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড় মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরপর এসব ঘটনার পর ওই কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে এসব ঘটনায় তার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখনো পর্যন্ত পাঁচজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী, ওসি অপারেশন হেলাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








