ভাইভা বোর্ডে হাতের লেখায় গরমিল, নারী প্রার্থীকে ডেকে এনে আটক

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে গিয়ে হাতের লেখার অমিল ধরা পড়ায় এক নারী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আটক ওই প্রার্থীর নাম আসমা খাতুন। তার রোল নম্বর ৫৯২৪০৫৪।
জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভাইভা চলাকালে প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার ওয়েমার শিটে থাকা হাতের লেখার সঙ্গে ভাইভা বোর্ডের সামনে লিখে দেওয়া হাতের লেখার মধ্যে স্পষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভাইভা বোর্ড তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: মাগুরায় অস্ত্র-গুলিসহ যুবদল নেতা আটক
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন জানান, ভাইভা শেষে ওই প্রার্থী প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে জানানো হয় এবং এরপর থানায় মামলা করা হয়। তবে বর্তমানে তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ভাইভা পরীক্ষায় ওই প্রার্থী সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। এ কারণে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, সম্ভবত লিখিত পরীক্ষাটি অন্য কেউ দিয়ে থাকতে পারে। তবে পুরো ঘটনাপ্রবাহকে তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কঠোর বলে মন্তব্য করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রার্থী আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম হতে পারেন এবং তার দুইটি সন্তান রয়েছে। ভাইভা শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। পরে তাকে পুনরায় বাসা থেকে ডেকে এনে আটক রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।








