Logo

আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:২৫
আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকায় সক্রিয় একাধিক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্য ও গোপনে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত আট থেকে নয়টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের মধ্যে অর্থ বণ্টন ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ওই বিরোধের জের ধরেই দিলীপ ওরফে ‘বিনাস’ নামে এক ব্যক্তির নির্দেশনায় মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ডিবি প্রধান জানান, গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে। পরদিন তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মো. রহিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে রহিম ও আরেক আসামি জিন্নাতকে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে। তাদের দুজনকেই শুটার হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর আগে জিন্নাত, আবদুল কাদির, রিয়াজ ও বিলাল—এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘বিনাস’ নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সক্রিয় সদস্য এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। এমনকি একজন আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তার নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ডিবি প্রধান বলেন, কারওয়ান বাজার একটি বড় বাণিজ্যিক ও কাঁচাবাজার এলাকা। সেখানে দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। সেটির জেরেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো নির্দিষ্ট দল বা আদর্শ নেই। সুবিধা নেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, তারা সুযোগ বুঝে ব্যানার বদলায়।

তিনি আরও জানান, কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ডিবি শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালাবে। নির্বাচন সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসেই রাজধানী থেকে প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD