লঞ্চের কেবিনে কলেজের ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, গ্রেফতার ২

রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে আটকে রেখে দুই দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ (রবিবার) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী (১৭) নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ‘এমভি ফারহান-০৪’ নামক লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার বাবা নিজে তাকে লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে তুলে দিয়ে আসেন। একই লঞ্চে যাত্রী হিসেবে ছিলেন অভিযুক্ত সাকিব ও মিঠু।
বিজ্ঞাপন
লঞ্চটি ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অভিযুক্তরা সুকৌশলে ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় কড়া নাড়ে। নিজেদের ওই শিক্ষার্থীর বাবার পরিচিত বলে দাবি করে তারা। এরপর তারা জানায়, নিরাপত্তার কারণে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে থাকা কিছু টাকা তার কেবিনে রাখতে চায়। সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষার্থী তাদের কেবিনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কেবিনে প্রবেশের পর থেকেই অভিযুক্তদের আচরণ বদলে যায়। তারা শিক্ষার্থীর বেডে বসে পড়ে এবং তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। এ সময় নুরুজ্জামান মিঠু ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বাইরে চলে যায় এবং বাইরে থেকে পাহারায় থাকে। অন্যদিকে, সাকিব ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। চিৎকারের চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এখানেই শেষ নয়, একই দিন রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও ওই কেবিনে প্রবেশ করে। প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশ অভিযানে নামে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
ওসি শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করি। আসামিদের আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে। লঞ্চের মতো জনাকীর্ণ স্থানে এমন নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।








