বরগুনায় ডিসি কার্যালয়ে ঢুকে হামলা

বরগুনা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে কক্ষে প্রবেশ করে এক যুবকের হামলায় অফিসের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আহত কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী (সিএ) মো. জহিরুল ইসলাম। আর গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অফিসের কাজে জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার সকালে তালতলী উপজেলায় অবস্থান করছিলেন। ফলে তার কক্ষটি তখন খালি ছিল। এই সুযোগে ইব্রাহীম খলিল গোপনে একটি ধারালো সেলাই রেঞ্জ (প্রায় ১৪-১৫ ইঞ্চি) সঙ্গে নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন এবং সরাসরি ডিসির কক্ষে ঢুকে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে সিএ জহিরুল ইসলাম কক্ষে যান এবং ওই যুবকের উপস্থিতির কারণ জানতে চান। কথোপকথনের একপর্যায়ে ইব্রাহীম ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা রেঞ্জ দিয়ে জহিরুলের ওপর আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন।
জহিরুলের চিৎকারে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা হামলাকারীকে আটক করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আহত জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজের কক্ষে কাজ করছিলেন। হঠাৎ দেখেন একজন ব্যক্তি ডিসির রুমে ঢুকছেন। ডিসি অফিসে না থাকায় সন্দেহ হলে তিনি সেখানে গিয়ে জানতে চান। তখনই যুবকটি তাকে আক্রমণ করে বসে।
বিজ্ঞাপন
অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা জানান, সকালে এক ব্যক্তি এসে ডিসির সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। তাকে জানানো হয়, ডিসি অফিসে নেই এবং পরে আসতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই হামলার ঘটনা ঘটে। সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি দ্রুত গিয়ে হামলাকারীকে আটক করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, হামলাকারীর কাছ থেকে একটি সেলাই রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে সে কক্ষে ঢুকেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, অফিসে নিয়মিতই সাধারণ মানুষ বিভিন্ন কাজে আসেন। সম্ভবত সেই সুযোগেই ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা এড়িয়ে ঢুকে পড়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, ইব্রাহীম খলিলকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনদুপুরে জেলা প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।








