Logo

জাল ভোট দিলেই হবে যে শাস্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯:৪৯
জাল ভোট দিলেই হবে যে শাস্তি
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবুও প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোটের অভিযোগ সামনে আসে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জাল ভোটের সঙ্গে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

জাল ভোট কেবল অন্যের হয়ে ভোট দেওয়াই নয়; এর আওতা আরও বিস্তৃত। অন্যের পরিচয়ে ভোট প্রদান, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভোটের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যেতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

নির্বাচনি অপরাধ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে জাল ভোট শুধু অনৈতিক নয়, বরং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ—যার কারণে একজন ব্যক্তি নিজের ভবিষ্যৎ ও নাগরিক অধিকারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জাল ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা জাল ভোট প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নির্বাচনি অপরাধের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া বা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া বা নেওয়ার চেষ্টা করা। ভোট দেওয়ার অযোগ্য জেনেও ভোট প্রদান করা বা ব্যালট পেপার চাওয়া। একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট দেওয়া বা ব্যালট পেপার গ্রহণের চেষ্টা করা। একই নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রে ভোট দেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করা। ভোট চলাকালে কোনো কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলা। জেনে-শুনে অন্য কাউকে এসব কাজে প্ররোচিত করা বা সহায়তা চাওয়া।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনি আইনের ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও নির্বাচনি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভোটের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘটনাস্থলেই অভিযোগ বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে জাল ভোটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটারদের আইন মেনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD