যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় শুটারসহ দুজন আটক

যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ দুইজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক অপরজন শামীম, যিনি ঘটনার দিন নিহতের অবস্থান শনাক্তে সহায়তা করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্য জানান।
গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মনিরামপুর উপজেলা-এর কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের মাঝামাঝি কাঁচা সড়কে, ঝুম বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলা কেটে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি-র সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, আটক মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর মামলা রুজু হলে যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের দাবি, রানা প্রতাপ বৈরাগী বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি-র নেতা শিপন আহমেদ মুন্না-র নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি তা বন্ধ না করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠান রানার অবস্থান নিশ্চিত করতে। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয় এবং পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না ও জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।








