ডাকাতির পর ফেলে যাওয়া মোবাইলের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার ৭ সদস্য

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন। সেই সূত্র ধরেই র্যাব অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি ওই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন হলেন—মাসুদ রানা (৪৩), নাসির পিয়াদা (৪০), হৃদয় মীর (২২), রোমান শেখ (৩৪) এবং মো. মামুন (৩২)।
বিজ্ঞাপন
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কেরানীগঞ্জের ইয়াংজিয়াং প্রকল্পের একটি কারখানায় প্রবেশ করে। মূল ফটক দিয়ে ঢুকে প্রথমেই নিরাপত্তারক্ষীকে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর দলটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—একটি দল বাইরে পাহারায় থাকে, আরেকটি দল ভেতরে গার্ডদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, অন্য একটি দল নিচতলায় অবস্থান নিয়ে একজন চীনা নাগরিককে জিম্মি করে এবং বাকি সদস্যরা ওপরতলায় উঠে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করতে থাকে।
ডাকাতির একপর্যায়ে এক চীনা নাগরিক বাধা দিলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। পরে ডাকাতরা ভবনের ভেতরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর র্যাব ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। এ সময় ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ওই ফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি ব্র্যান্ডের দামী ঘড়ি, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে পৃথক আরেকটি অভিযানে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী—মো. জিতু (৩৩) ও হুমায়ুন হোসেন রনি (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে।








