Logo

প্রধান আসামি জামায়াত নেতা, চার দিন পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৪১
প্রধান আসামি জামায়াত নেতা, চার দিন পার হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিম হত্যার চার দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান ও হুকুমদাতা হিসেবে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮) আসামি করা হয়েছে। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য। তার বাড়ি ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে।

মামলার এজাহারে মোট চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় কমিটির সভাপতি; পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার রাজীব মিস্ত্রী (৪৫) এবং ইসলামপুর (পূর্ব পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুতই অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরের দিকে ফিলিপনগরে নিজ বাড়ির দরবার শরিফে অবস্থান করছিলেন আব্দুর রহমান। এ সময় প্রধান আসামির নির্দেশে নাম উল্লেখিত ও অজ্ঞাতনামা বিপুলসংখ্যক লোক দেশীয় অস্ত্র—লোহার রড, দা, ছুরি, কুড়াল, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দরবারে হামলা চালায়। তারা দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে।

হামলার একপর্যায়ে দরবারের দ্বিতীয় তলায় উঠে জোবায়ের (৩১) নামের একজনকে মারধর করা হয়। পরে রাজীব মিস্ত্রী লোহার রড দিয়ে আব্দুর রহমানের কোমর ও মাথায় আঘাত করেন। পাশাপাশি অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করে।

বিজ্ঞাপন

আহত অবস্থায় আব্দুর রহমান চিৎকার করলে দরবারের পরিচারিকা জামিরন এগিয়ে আসেন। এ সময় আসাদুজ্জামান তাকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। পাশাপাশি একটি স্টিলের আলমারি ভেঙে পাঁচ লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে প্রধান আসামি মুহাম্মদ খাজা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ফিলিপনগরের এই ঘটনা রাজনৈতিক নয় এবং এর সঙ্গে দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দলকে জড়ানোর চেষ্টা করছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD