Logo

পাচারকৃত ৪৪ কোটির বেশি টাকা ফেরত আনল সিআইডি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৪৩
পাচারকৃত ৪৪ কোটির বেশি টাকা ফেরত আনল সিআইডি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণার একটি বড় অংশের অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকারও বেশি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এমটিএফই পনজি স্কিমের মাধ্যমে প্রতারণার একটি মামলার সূত্র ধরে বিষয়টি সামনে আসে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় এক ভুক্তভোগী প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন। পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে এমটিএফই কার্যক্রম শুরু করে। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হতো। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ডলারের মাধ্যমে মুনাফা দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।

প্রতারক চক্রের কৌশল ছিল শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে তারা উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়।

সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার একটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থের উৎস ও প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আদালতের নির্দেশে সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার ওই হিসাবে জমা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার বলেন, লোভনীয় মুনাফার আশায় অনেকেই এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। কেউ কেউ টাকা জোগাড় করতে স্বর্ণালংকার ও জমিজমাও বিক্রি করছেন। সামাজিক নানা কারণে অনেক ভুক্তভোগী আইনের দ্বারস্থ হন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ভুক্তভোগীর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ অনেকেই এখনো সামনে আসেননি। তবে আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরাতে সিআইডি কাজ করে যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD