Logo

করোনা প্রকল্পে সাগরচুরি : দুদকের জালে সাবেক মন্ত্রীসহ ১৩ জন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৩৯
করোনা প্রকল্পে সাগরচুরি : দুদকের জালে সাবেক মন্ত্রীসহ ১৩ জন
ছবি: সংগৃহীত

কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয়ের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য উদঘাটন করেছে সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনায় সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের মোট ৩৮ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যক্তি হিসেবে ১৩ জনকে আসামি করে পৃথক ছয়টি মামলা দায়েরের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে— ভুয়া বিল তৈরি, অতিরিক্ত দামে কেনাকাটা এবং কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা হয়েছে। তবে বর্তমানে কমিশন না থাকায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে নতুন কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন।

প্রথম মামলা : কেএন-৯৫ মাস্ক, এন-৯৫ মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ক্রয়ে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে— জাহিদ মালেক, ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, ডা. মো. শরীফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডা. অনির্বাণ সরকার এবং কাজী শামীমুজ্জামান।

দ্বিতীয় মামলা : হাসপাতালের ইলেকট্রিক বেড ক্রয়ে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আসামি— ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, ডা. মো. শরীফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডা. অনির্বাণ সরকার এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় মামলা : কেএন-৯৫ মাস্ক ক্রয়ে ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আসামি— জাহিদ মালেক, ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, ডা. মো. শরীফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডা. অনির্বাণ সরকার এবং মো. সাইফুর রহমান।

চতুর্থ মামলা : সচেতনতামূলক টিভিসি প্রচার না করেই ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আসামি— ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এবং মো. হোসনী ইয়ামিন।

পঞ্চম মামলা : মেডিকেল ও সার্জিক্যাল পণ্য ক্রয়ে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আসামি— ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, ডা. মো. শরীফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত, ডা. অনির্বাণ সরকার এবং মো. মোস্তফা মনোয়ার।

বিজ্ঞাপন

ষষ্ঠ মামলা : করোনা বিষয়ক মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির নামে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। আসামি— ডা. ইকবাল কবীর, ডা. তাহমিনা জোহরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মো. মোস্তফা মনোয়ার এবং রইসুল কবীর।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০বি ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলো কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালে করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়, পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক থেকেও ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া যায়। এই অর্থ দিয়ে পরিচালিত ইআরপিপি প্রকল্পেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

বিশ্বব্যাংকের তদন্তে দেখা যায়, অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ দেওয়া হয় এবং তারা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগও উঠে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD