নারীসহ রাত্রিযাপনে পুলিশি পাহারা চাইলেন ‘ভুয়া জজ’, অতঃপর...

নিজেকে সহকারী জজ পরিচয় দিয়ে এক নারীসহ পুলিশি পাহারায় রাত কাটানোর অদ্ভুত আবেদন জানাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক প্রতারক। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদী থানায়, যেখানে তার আচরণে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরিচয় যাচাই করে সত্যতা উদঘাটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানায় হাজির হন সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী নামের ওই ব্যক্তি। সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সামনে তিনি নিজেকে যশোর জেলার একজন সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন, যেন তাকে ও তার সঙ্গে থাকা নারীকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাত যাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেন উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই শুরু হয়। একাধিক ধাপে অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন; বরং ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তার সঙ্গে থাকা নারী কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়েন। ফলে তাকে আর আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি যশোরের কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগে চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে ঘোরাফেরা করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে থানায় আটক রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।








