যেভাবে হত্যা করে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এই ঘটনায় জড়িতদের আটকের পর হত্যার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তারাও ঘটনাটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্বে দেওয়া র্যাব কর্মকর্তারা আজ জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ৪ পেশাদার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন। পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা এগিয়ে নামেন তিনি। এরপর বাসস্ট্যান্ডে আসতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে ওঠেন। এই অটোরিকশাতেই ছিলেন ৪ ছিনতাইকারী। সামনে চালকসহ দুজন। পেছনে দুজন।
বিজ্ঞাপন
র্যাব-১১-এর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের ৪ জন সরাসরি জড়িত, বাকি একজনের কাছ থেকে বুলেটের ব্যবহৃত ব্যাগ, মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ৫ জনই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি।
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের উল্টো দিক চট্টগ্রামগামী সড়কের ফুটপাতে পড়ে ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৪) মরদেহ। রাস্তার এই পাশে তার যাওয়ার কথা নয়। গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ফিরে আসার বাসগুলো মূলত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যায়, সরাসরি কুমিল্লা আসে না।
জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীরা জানিয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে বেশ কিছুটা পথ সামনে নামায় স্ট্যান্ডে ফিরতে সিএনজিচালিত অটোরিশাতে ওঠেন। চালক তাকে বলে, ‘আর একজন হলেই ছেড়ে দেব।’ এসময় তারা বুলেটকে পাশে বসায়।
বিজ্ঞাপন
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযানে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘ যাত্রার কারণে বুলেট ক্লান্ত ও ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ছিনতাইকারীদের হাতে অস্ত্র দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং হয়তো আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই শেষে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মহাসড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ছিনতাইকারীরা চৌয়ারা বাজার এলাকার উলুরচর মৌজার আজিজ ম্যানশনের দিকে চলে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।








