ইভিএম ক্রয়ে ৩৮২৫ কোটি টাকার অনিয়ম, তদন্তে দুদক

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিপুল ব্যয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রায় ৩৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প নিয়ে অডিট আপত্তি ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনের কার্যক্রমে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার লিখিত প্রশ্নে এই প্রকল্পকে জনগণের অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।
জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম সংগ্রহের জন্য ৩৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এসব যন্ত্র কেনা হয়। যদিও প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবে এর সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) নিয়ে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে। গত বছরের মে মাসে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও এখনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটির বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম নিয়ে অডিট অধিদপ্তর একাধিক গুরুতর আপত্তি তুলেছে, যেগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি বর্তমানে দুদকের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে। বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিশনের অষ্টম সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—আগামীতে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা এসব যন্ত্র বর্তমানে ব্যবহারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গুদাম এবং বেইজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে এসব ইভিএম।








